হাদিস · 11205
নিশ্চয় কবর হলো আখিরাতের মনযিলসমূহের প্রথম মনযিল। কেউ যদি এখান থেকে রেহাই পায়, তবে তার জন্য পরবর্তী মনযিলগুলো কবরের চেয়েও সহজতর হবে। আর কেউ যদি এখান থেকে রেহাই না পায়, তবে তার জন্য…
উসমান রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর দাস হানী (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উসমান রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু যখন কোন কবরের নিকট দাঁড়াতেন, কেঁদে দিতেন, (আল্লাহর ভয়ে চোখের পানিতে) তার দাড়ি ভিজে যেত। একদা তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, জান্নাত ও জাহান্নামের কথা স্মরণ হলে, আপনি কাঁদেন না। আর আপনি এ জায়গায় (কবরস্থানে) দাঁড়িয়ে কাঁদছেন? তিনি প্রত্যুত্তরে বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
“নিশ্চয় কবর হলো আখিরাতের মনযিলসমূহের প্রথম মনযিল। কেউ যদি এখান থেকে রেহাই পায়, তবে তার জন্য পরবর্তী মনযিলগুলো কবরের চেয়েও সহজতর হবে। আর কেউ যদি এখান থেকে রেহাই না পায়, তবে তার জন্য পরবর্তী মনযিলগুলো আরো ভয়াবহ হবে।”
ব্যাখ্যা
খলিফা উসমান ইবনে আফফান (রা.) যখন কোনো কবরের পাশে দাঁড়াতেন, তখন তিনি এত বেশি কাঁদতেন যে তাঁর দাড়ি তাঁর অশ্রুতে ভিজে যেত। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো: আপনি জান্নাত ও জাহান্নামের কথা স্মরণ করলে জান্নাতের আকাঙ্ক্ষায় বা জাহান্নামের ভয়ে কাঁদেন! আর কবরের জন্য কাঁদেন? তিনি বললেন: নবীজি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কবর হলো আখিরাতের প্রথম অবস্থান। যদি কেউ এখান থেকে মুক্তি পায়, তাহলে পরের অবস্থানগুলো তার জন্য সহজ হবে। আর যদি কেউ এখানকার শাস্তি থেকে রক্ষা না পায়, তাহলে পরের শাস্তি এর চেয়েও কঠিন হবে।
হাদিসের শিক্ষা
- উসমান (রা.)-এর অবস্থা বর্ণনা করা হয়েছে যে, তিনি আল্লাহ তাআলার ভয়ে ভীত থাকতেন, যদিও তিনি জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
- কবরের ভয়াবহতা ও কিয়ামতের কথা স্মরণ করে কাঁদা শরীয়তসম্মত।
- কবরের সুখ ও শাস্তি প্রমাণিত।
- কবরের শাস্তি থেকে সতর্ক করা।
এই হাদিস অন্যান্য ভাষায়: Bosanski · English · العربية · Türkçe · Bahasa Indonesia · اردو · فارسی
মূল পাঠ, অনুবাদ, ব্যাখ্যা ও মান: HadeethEnc.com – অনূদিত নববী হাদিস বিশ্বকোষ। সূত্রে দেখুন