হাদিস · 4457

আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে সাহরী খাই এরপর তিনি সালাতের জন্য দাঁড়ান। (বর্ণনাকারী বলেন,) আমি জিজ্ঞেস করলাম, আযান ও সাহরীর মাঝে কতটুকু ব্যবধান ছিল? তিনি বললেন…

عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: تَسَحَّرْنَا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ثُمَّ قَامَ إِلَى الصَّلاةِ، قُلْتُ: كَمْ كَانَ بَيْنَ الأَذَانِ وَالسَّحُورِ؟ قَالَ: قَدْرُ خَمْسِينَ آيَةً.

যায়দ ইবনু সাবিত রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,

আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে সাহরী খাই এরপর তিনি সালাতের জন্য দাঁড়ান। (বর্ণনাকারী বলেন,) আমি জিজ্ঞেস করলাম, আযান ও সাহরীর মাঝে কতটুকু ব্যবধান ছিল? তিনি বললেন, পঞ্চাশ আয়াত (পাঠ করা) পরিমাণ।

সহিহ সূত্র: বুখারি ও মুসলিম (মুত্তাফাকুন আলাইহি) · متفق عليه

ব্যাখ্যা

কিছু সাহাবী রাদিয়াল্লাহু আনহুম নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সাহরি খেয়ে তারপর ফজরের সালাতের জন্য দাঁড়িয়েছিলেন। আনাস যায়েদ ইবনু সাবিত রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বললেন: আজান এবং সাহরি শেষ হওয়ার মধ্যে কত সময় ছিল? যায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: পঞ্চাশটি মধ্যম সারির আয়াত পড়ার পরিমাণ, দীর্ঘও নয়, সংক্ষিপ্তও নয়, দ্রুতও নয়, ধীরেও নয়।

হাদিসের শিক্ষা

  • সাহরি ফজরের ঠিক আগে পর্যন্ত বিলম্বিত করা উত্তম। কারণ যদি সে এটি বিলম্বিত করে, তাহলে এর থেকে শরীরের উপকারিতা আরও বেশি হবে এবং দিনের বেলায় তার উপকারিতাও বেশি হবে।
  • সাহাবাগণ নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণের জন্য তার সাথে সমবেত হওয়ার প্রতি আগ্রহী ছিলেন।
  • নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের সাথে ভালো ব্যবহার করতেন, যেমন তিনি তাদের সাথে খেতেন।
  • বিরত থাকার সময় হলো ফজরের উদয় হওয়া।
  • তাঁর এই উক্তি: “আযান এবং সাহরীর মধ্যে কতটা সময় ছিল?” এর অর্থ সাহরী এবং ইকামতের মধ্যে। কারণ তিনি অন্য একটি হাদিসে বলেছেন: “তাদের সাহরী শেষ করা এবং সালাতে প্রবেশের মধ্যে কত সময় কেটেছিল?” হাদিসগুলি একে অপরের ব্যাখ্যা করে।
  • আল-মুহাল্লাব বলেন: এতে শারীরিক কর্মের উপর ভিত্তি করে সময় গণনা করা অন্তর্ভুক্ত। আরবরা কর্মের উপর ভিত্তি করে সময় গণনা করতেন, যেমন বলা হত: একটি ভেড়ার দুধ দোহন করার মত সময়, অথবা একটি উট জবাই করার মত সময়। যায়েদ ইবনু সাবিত রাদিয়াল্লাহু আনহু সেটি পরিহার করে কিরাতের উপর ভিত্তি করে অনুমান করা গ্রহণ করলেন। এটা ইঙ্গিত করে যে, সেই সময়টি ছিল কিরআতের মাধ্যমে ইবাদতের সময় এবং যদি তারা কাজ ছাড়া অন্য কিছু দিয়ে এটি অনুমান করতেন, তাহলে তিনি বলতেন, উদাহরণস্বরূপ: এক ডিগ্রির পরিমাণ, অথবা এক- ঘন্টার পাঁচ ভাগের তিন ভাগ।
  • ইবনু আবি জামরাহ বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতের জন্য কোনটি সবচেয়ে বেশি নমনীয় তা দেখতেন এবং তা করতেন। কারণ যদি তিনি সাহরি না খেতেন, তাহলে তারা তার অনুসরণ করতেন, যা তাদের কারো কারো জন্য কঠিন হত। আর যদি তিনি রাতের মাঝখানে সাহরি খেতেন, তাহলে তাদের কারো কারো জন্য তা কঠিন হত যাদের উপর ঘুম প্রবল হয়, এর ফলে তাদের ফজরের সালাত মিস হতে পারত অথবা তাদের রাত জেগে থাকার চেষ্টা করতে হত।

সিয়ামের সুন্নতসমূহ

এই হাদিস অন্যান্য ভাষায়: Bosanski · English · العربية · Deutsch · Türkçe · Bahasa Indonesia · اردو · فارسی

মূল পাঠ, অনুবাদ, ব্যাখ্যা ও মান: HadeethEnc.com – অনূদিত নববী হাদিস বিশ্বকোষ। সূত্রে দেখুন

সম্পর্কিত হাদিস

← সব হাদিস ও বিষয়